রাজধানীর বাজারে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়ে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ, তিন গুণ বা তারও বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুন, শসা, ধুন্দল, বরবটি ও করলার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বেগুনের গড় দাম ছিল প্রতি কেজি ৪০ টাকা ৭১ পয়সা, যা বর্তমানে গোল বেগুনের জন্য ১৫০ টাকা এবং লম্বা বেগুনের জন্য ১২০ টাকা। এই হিসাবে বেগুনের দাম ৯ বছরে প্রায় ২৬৮ শতাংশ বেড়েছে। শসার দাম ২৯ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ২৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
এছাড়া, ধুন্দলের দাম ২৯ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় উঠেছে, যা ১৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি। বরবটির দাম ৩৯ টাকা ৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। টম্যাটোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, ২০১৭ সালে যার গড় দাম ছিল ৫৯ টাকা ৮৫ পয়সা, বর্তমানে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই সবজি ঝুড়িতে ৯ বছর আগে খরচ ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ২ হাজার ৫৪০ টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি পরিবারের গড় মাসিক খাদ্য ব্যয় ছিল ১৪ হাজার ৩ টাকা। বর্তমানে সাত ধরনের সাধারণ সবজি কিনতেই একটি পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।
দাম বৃদ্ধির পেছনে উত্পাদন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ব্যয় এবং সরবরাহ সংকটের মতো বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, ফলে তাদের খাদ্য ব্যয়ে সমন্বয় করতে হচ্ছে।