টেস্ট পরীক্ষার নিয়ম ও ফরম পূরণ নিয়ে বিভ্রান্তি: প্রকৃত চিত্র কী?
সম্প্রতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে “১০৯ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত” শিরোনামে যে বক্তব্য ছড়িয়েছে, তা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন।
জানা গেছে, আলোচিত ১০৯ জন শিক্ষার্থীর অধিকাংশই ইতোমধ্যে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফরম পূরণ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে এনকেএম স্কুলে পরীক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৮ জন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সরব থাকা সাংবাদিক মোবারকের সন্তানকেও একটি মডেল স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার ছেলে পরীক্ষায় মাত্র ৪ নম্বর পেয়েছিল বলেও জানা গেছে।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—যদি শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়াই স্কুল কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য হতো, তাহলে টেস্ট পরীক্ষার পর পুনরায় (রিটেক) পরীক্ষা নেওয়া হলো কেন? বাস্তবতা হলো, রিটেক পরীক্ষায় ৬৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের সুযোগ পেয়েছে।
অন্যদিকে, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পষ্ট প্রজ্ঞাপনে বলা আছে—টেস্ট পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করলে তার ফরম পূরণ করানো যাবে না। এই নির্দেশনার বাইরে গিয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরম পূরণ করালে তা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে গণ্য হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নিয়ম অমান্য করে, তাহলে কি সব প্রতিষ্ঠানকে তা অনুসরণ করতে হবে? কোথাও এমন কোনো নির্দেশনা নেই যে, এক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, আবেগ নয়—আইন ও নীতিমালার আলোকে বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। নিয়ম মেনে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা সুযোগ পেয়েছে। আর যারা নিয়মে পড়েনি, তাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়াই স্বাভাবিক।
সব মিলিয়ে, “১০৯ জন শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিত” দাবি কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।