• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
গুলশান-২ থেকে ১,০০১ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ একজন গ্রেপ্তার তারাগঞ্জে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের মান নিয়ে অসন্তোষ, তদন্তের আশ্বাস খাদ্য বিভাগের সুনামগঞ্জের হালুয়ারঘাট এলাকায় সাংবাদিকতার পরিচয়ে হাসান আলীর বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির অভিযোগে এলাকাবাসির মানববন্ধন দিনাজপুরের বিরামপুরে দিনব্যাপী জব কেয়ার চাকুরী মেলা অনুষ্ঠিত।  সাতক্ষীরার কৃষ্ণনগরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ, দুর্ভোগে পরিবার যশোরের বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ রায়পুরায় চলন্ত বাসে পুলিশের অভিযান, ১৪০ রাউন্ড সিসার গুলিসহ নারী আটক নবীনগরে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবির অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে নরসিংদীতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা পঞ্চগড়ে সড়কের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজস্ব আত্মসাতের দাবি

গণপূর্তে লটারির বদলি নিয়ে বিতর্ক: স্বচ্ছতার উদ্যোগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

৪৬

গণপূর্তে লটারির বদলি নিয়ে বিতর্ক: স্বচ্ছতার উদ্যোগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

 

বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

 

ঢাকা: বদলি-বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের পদায়ন করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। তাঁদের অভিযোগ, লটারির আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়ে অনিয়ম ও পক্ষপাতের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা জরুরি।

 

সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উপস্থিতিতে ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল), ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীসহ মোট ১ হাজার ৪৩০ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগের পরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা যাচাইয়ের দাবি জোরালো হচ্ছে।

 

‘দুই সারোয়ারকে’ ঘিরে অভিযোগ

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, পদায়ন প্রক্রিয়ায় ‘সারোয়ার’ নামের দুই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, একজন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অন্যজন অধিদপ্তর পর্যায়ে মূল্যায়ন ও গ্রেডিংয়ের কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন।

 

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, কিছু কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে পাঠানো হলেও কয়েকজন বিতর্কিত কর্মকর্তা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পদায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

 

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা আর্থিক নথি, লেনদেনের তথ্য কিংবা অন্য কোনো অকাট্য প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য।

 

গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ঘিরে প্রশ্ন

 

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকটি পদায়ন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

 

প্রকৌশলী মাসুদ রানা: অভিযোগকারীদের দাবি, ডিভিশন-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানা মেডিকেল ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে পূর্ববর্তী অভিযোগের প্রকৃতি, সেগুলোর তদন্তের ফলাফল এবং বর্তমান পদায়নের ভিত্তি যাচাই করা প্রয়োজন।

 

প্রকৌশলী আহসান হাবিব: ডিভিশন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিবকে স্টাফ অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় আসামি হওয়া এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের আইনি ভিত্তি এবং পদায়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে যাচাই করা জরুরি।

 

প্রকৌশলী রাজিব: অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজউক থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে ফেরার পর রাজিব প্রথমে মহাখালীতে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। পরে লটারির মাধ্যমে তাঁকে আবার ডিভিশন-১-এ পদায়ন করা হয়। এসব পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি ও পদায়নের মানদণ্ড পরীক্ষা করেই বিষয়টি নির্ধারণ করা সম্ভব।

 

প্রকৌশলী আন্দালিব রহমান: শেরেবাংলা-৩-এ দায়িত্ব পালনকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আন্দালিব রহমানকে গুরুত্বপূর্ণ সিটি ডিভিশনে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্তের ফলাফল এবং বর্তমান পদায়নের যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।

 

লটারি কতটা স্বচ্ছ ছিল?

 

লটারির মাধ্যমে পদায়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত যোগাযোগ, তদবির ও অনৈতিক প্রভাবের সুযোগ কমানো। কিন্তু কোনো পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই সেটিকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একইভাবে লটারির নামে পদায়ন করা হয়েছে বলেই পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরপেক্ষ প্রমাণিত হয় না।

 

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—লটারির আগে কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, গ্রেডিং, পছন্দক্রম ও পদায়নের শর্ত কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল? লটারির ফলাফল পরিবর্তন বা প্রভাবিত করার সুযোগ ছিল কি না? চূড়ান্ত পদায়ন তালিকা তৈরির সময় কোনো ব্যতিক্রম ঘটানো হয়েছিল কি না?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে লটারির মূল নথি, গ্রেডিং শিট, সভার কার্যবিবরণী, পদায়ন আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

ব্যাংক লেনদেন ও নথি যাচাইয়ের দাবি

 

অভিযোগকারী কর্মকর্তাদের একাংশ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করা সম্ভব।

 

তবে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কারও ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ব্যাংক হিসাবকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে পারে।

 

একই সঙ্গে পদায়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকা, যোগাযোগের রেকর্ড এবং প্রশাসনিক নথিও আইনসম্মতভাবে পরীক্ষা করা যেতে পারে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য

 

অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সারোয়ার নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সারোয়ার নামের কর্মকর্তা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, তিনি এককভাবে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেননি; মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু অফিস গ্রেডিংয়ের কাজ করেছেন। এই মূল্যায়ন ও গ্রেডিং প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলেও তিনি দাবি করেছেন।

 

তাঁর এই বক্তব্যের পাশাপাশি গ্রেডিং প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রকৃত পরিধি যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের পদায়ন নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নথিনির্ভর তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে লটারির নিয়ম, গ্রেডিংয়ের মানদণ্ড, চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া এবং বিতর্কিত পদায়নগুলোর প্রশাসনিক যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহও দূর করা জরুরি।

 

স্বচ্ছতার নামে নেওয়া কোনো উদ্যোগ যেন নতুন করে বিতর্কের জন্ম না দেয়—এ জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি, নিরপেক্ষ যাচাই এবং সবার জন্য সমান প্রশাসনিক মানদণ্ড।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd