• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
অষ্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী ‘বড় শিন্নী’ উৎসব অনুষ্ঠিত করিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত ঈদ শেষে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি: তারাগঞ্জে দূরপাল্লার বাসে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ মাধবদীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রশাসনের তৎপরতা, মোবাইল কোর্টে ১৪,৫০০ টাকা জরিমানা যশোর বেনাপোল সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির কড়াকড়িতে ব্যর্থ বিএসএফ শার্শায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শার্শায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রায়পুরায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বেনাপোল সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার চামড়া পাচার ঠেকাতে  রংপুরের তারাগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা

এক যুগেও মেলেনি বিচার: শিবপুরে কিশোর রায়হান হত্যা মামলায় নতুন করে উঠছে নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

১৬২

এক যুগেও মেলেনি বিচার: শিবপুরে কিশোর রায়হান হত্যা মামলায় নতুন করে উঠছে নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক।

নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় প্রায় এক দশক আগে ঘটে যাওয়া কিশোর রায়হান হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আজও সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার প্রকৃত আসামিরা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে পারিবারিক বিরোধ, রহস্যজনক সম্পত্তি লেনদেন এবং সাক্ষীদের নীরবতা মামলার তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

শিবপুর মডেল থানার মামলা নম্বর ৩৪/০৮/১৪ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে নিখোঁজ হওয়ার পর শিবপুর এলাকার একটি নদী থেকে রায়হানের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন রায়হানের সঙ্গে তার বড় ভাই আতাউর রহমান সোহেল মিয়ার কথাকাটাকাটি হয়েছিল। এরপর থেকেই রায়হান নিখোঁজ হন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

 

মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে মামলার বিষয়ে অনেক কিছু জানলেও তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে জানান। এদিকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আলহাজ্ব মাসুদুল হক মাস্টার এবং আতাউর রহমান সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রায়হানের পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয়দের দাবি, রায়হানের মা ও তিন বোনের সমান অধিকার থাকা সত্ত্বেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে সম্পত্তি লেনদেন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার সাক্ষী কামরুল হাসান ভূঁইয়া নিজেই রায়হানের পরিবারের একটি অংশের সম্পত্তি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর এমন সম্পত্তি ক্রয়কে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে মনে করছেন, এই সম্পত্তি লেনদেনের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

এছাড়া একটি সূত্র দাবি করেছে, হত্যা মামলার বাদী সাক্ষী কামরুল ইসলামের, সাউথ এশিয়া ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা জমা রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে আরেক সাক্ষী ও রায়হানের বড় ভাই সোহেল মিয়াকে ৪ শতাংশ জমি লিখে দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নিহতের স্বজন সুলতান মাহমুদ জুয়েল বলেন, “আমি ন্যায়বিচারের দাবিতেই প্রতিবাদ করছি। মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে আমাদের পরিবার নিরাপদ নয়।” তিনি মামলাটির পুনঃতদন্ত এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানা-এর এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালত নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণের ভিত্তিতে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিলে আইনগতভাবে তা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঝুলে থাকা এই হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে উচ্চতর তদন্ত সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd