ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, শোকজ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।
নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের চেষ্টা, ব্যাংকের চেক বই নিয়ে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন নয়নের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী নাসিমা বেগম অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় নেতা ইব্রাহিম হোসেন নয়ন তার কাছে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। এ সময় কাগজপত্র বের করার মুহূর্তে গোপনে তার ব্যাংকের চেক বই নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
পরে চেক বই খুঁজে না পেয়ে ইব্রাহিমের কাছে গেলে তিনি চেক বই ফেরত দেন। তবে নাসিমা বেগম দাবি করেন, চেক বইয়ের ৫টি পাতা তখন আর বইয়ে ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি চেকের পাতা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি।
নাসিমা বেগম আরও বলেন, ঘটনার কয়েকদিন আগে জন্মনিবন্ধন অনলাইন করে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের তিনটি মূল জন্মনিবন্ধন সনদ ও একটি টিকা কার্ড নিয়ে যান ইব্রাহিম। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, চেকের ৫টি পাতা, জন্মনিবন্ধন সনদ ও টিকা কার্ড ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নাসিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি আদালতেও একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন–এর কাছেও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ—ইব্রাহিম হোসেন নয়নের বিরুদ্ধে এলাকায় সুদের ব্যবসার নাম করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাঁঠালিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন নয়ন ফ্যামিলি কার্ডের নামে অর্থ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “অনলাইনের কাজ করার জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ ও টিকা কার্ড নেওয়া হয়েছে। কাজ এখনও চলমান রয়েছে। তবে ফ্যামিলি কার্ড ও চেক বই সংক্রান্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।”
এ বিষয়ে মাধবদী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব জানান, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে সাংগঠনিকভাবে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।