নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং শেষ ধাপ ২৭ মে। কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান।
ইউপি নির্বাচনের পর পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৯ বার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রথমটি ১৯৭৩ সালে হয়। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, ফলে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সেবা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২১ থেকে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। তবে এবার তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটির সামনে রয়েছে সাংগঠনিক সংকট, কারণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে একাধিক প্রার্থী প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। বিএনপির জন্য একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে এবং অনেক প্রার্থীকে মাঠে নামিয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ নেই, তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।