স্থানীয় শাসন কি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, নাকি সামাজিক প্রতিষ্ঠান? স্থানীয় শাসনের চরিত্র ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থার সূচনা করে।

১৮৬৪ ও ১৮৭০ সালে শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা মূলত রাজস্ব আদায়ের জন্য ছিল। সীমিত ভোটাধিকারে কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্থানীয় শাসন গঠিত হতো। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাগণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের বিকাশ ঘটিয়েছিলেন, যার ফলে কলকাতা করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও শেরেবাংলা একে ফজলুল হক।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক শিক্ষা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের ওপর অপরিহার্যতা আরোপ করা হয়েছে। ১৯৭৮ সাল থেকে ভারতে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হয়। পাকিস্তানও ২০১০ ও ২০১৩ সালে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে আংশিকভাবে স্থানীয় শাসনের মেয়র বা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান চালু করে।

স্থানীয় শাসনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। ২০২০ সালে ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

স্থানীয় শাসনে রাজনৈতিক প্রতীকের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলমান, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আসন্ন স্থানীয় শাসন নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।