কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান ছিদ্দিকী চেয়ারম্যানের পদ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি ২২ জুন জেলা প্রশাসক বরাবর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে পুনর্বহালের আবেদন এবং পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। এ খবর প্রকাশের পর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর শাহজাহান ছিদ্দিকী আত্নগোপনে চলে যান। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হলে প্রথমে প্রশাসক ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। শাহজাহান ছিদ্দিকী বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন। জামিন লাভের পর তিনি চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পাওয়ার উদ্যোগ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং পরিষদের কার্যক্রমে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত পরিচালনা করে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে দীর্ঘ সময়েও কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, শাহজাহান ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালনকালে একাধিক ভুয়া জন্ম সনদ ও মৃত্যু সনদ প্রদান করেন এবং সরকারি বরাদ্দ বিতরণে অনিয়ম করেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট গণ আন্দোলনের পর খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে হামলা ও ভাংচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শাহজাহান ছিদ্দিকী পুনর্বহাল হলে নাগরিক সেবা ভেঙে পড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন থমকে যাবে। তাঁরা প্রশাসনের কাছে আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। খুরুশকুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিনের নাগরিক সেবা ও এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ জনগণ সন্তুষ্ট।