মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং রোহিঙ্গা জনগণের ওপর দমন-পীড়ন ক্রমেই বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির সামরিক জান্তা ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতে এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়কালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে সংঘাত, অর্থনৈতিক পতন এবং মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক জান্তা সাধারণ নাগরিকদের ওপর ভীতি সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় নিপীড়নমূলক কৌশল বাড়িয়েছে। বেসামরিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত বিমান হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, এই প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও নির্মম নিষ্ঠুরতার চিত্র তুলে ধরেছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে বলেন, মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের জন্য তাদের অবস্থান কতটা সুবিচারপূর্ণ তা ভাবা উচিত।

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল জান্তা বাহিনী। এরপর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।