ময়মনসিংহ নগরের একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে চিকিৎসক মো. আশিকুর রহমানকে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে মহানগর ছাত্রদলের এক নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের দাবি, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ার কারণে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চিকিৎসক আশিকুর রহমান 'ডক্টরস পেট কেয়ার' নামে একটি চেম্বারে বিড়ালের চিকিৎসা ও পোষা প্রাণীর উপকরণ বিক্রি করেন। হামলার সময়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর করছেন।
আজ শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চিকিৎসক আশিকুর রহমান। অভিযোগে তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসক অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা চেম্বারে ঢুকে চাঁদার জন্য চাপ দেন।
চিকিৎসক আরও জানান, হামলার সময় চেম্বারের কর্মী ঈশান আহমেদ, তার স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর করা হয়। হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।