রায়পুরায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আহত ৭; ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আটক ৪।

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর রায়পুরায় একটি মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী কারাগারে যাওয়ার পর তাকে ঘিরে আয়োজিত মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে।

 

একই ঘটনায় রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর সমর্থকরা মানববন্ধন করেন। পরে দুপুরে চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সংঘর্ষে আহতরা হলেন—রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, রায়পুরা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমু, উপজেলা যুবদল সদস্য রাসেল ভূইয়া, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক দ্বীন ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম পলাশ, কাচারিকান্দি এলাকার রিমন আহম্মদ ও ফকিরেরচর এলাকার জাহাঙ্গীর আলম। তারা রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত আমির হোসেন আমুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) একটি মামলায় হাজিরা দিতে নরসিংদী আদালতে যান রায়পুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলী। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে তাঁর সমর্থক নারী-পুরুষেরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন।

 

এ সময় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে গেলে মানববন্ধনকারীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

পরে রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূইয়ার বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলযোগে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর বাড়ির দিকে যান। সেখানে চেয়ারম্যানের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের প্রতিবাদে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

 

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীর বাড়ি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের বাড়ির গেট ও ভেতরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের বাড়ি অতিক্রম করার সময় লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মোটরসাইকেলের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

রায়পুরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূইয়া অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তাঁর অনুসারীরা হাসিমপুর বাজারে মানববন্ধন করেন। পরে তাঁর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে বলে খবর পান। নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে আসার পর তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

রায়পুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা টিএম ফরিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন আলীকে আদালত কারাগারে পাঠানোর পর তাঁর অনুসারীরা মানববন্ধনের চেষ্টা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মামুদপুর এলাকায় গেলে চেয়ারম্যানের অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।