সরকারের ছয় মাসে শিক্ষা খাতে বেশ কিছু অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা, নকলমুক্ত পরীক্ষা এবং সঠিক মূল্যায়নের মতো বিষয়গুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাজেটে শিক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষাবিদদের মতে, একটি বড় সফলতা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৬টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা, গবেষণা এবং শিক্ষার্থী কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে। তবে কিছু উদ্যোগ এখনও প্রস্তাবনা বা অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর শিক্ষা খাত ছিল বিএনপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে এবং পাবলিক পরীক্ষাগুলো সময়মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁস ঠেকানো এবং নকলমুক্ত পরীক্ষার আয়োজনও সরকারের সাফল্যের অংশ।

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা জাতীয় বাজেটের ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। প্রাথমিক শিক্ষায় মান উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিডডে মিল এবং আইটিভিত্তিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।

উচ্চশিক্ষা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মসংস্থানের উপযোগী করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। নারীদের শিক্ষাকে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য আধুনিক ট্যাব বিতরণের পরিকল্পনা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্পগুলো চলমান রয়েছে। এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে অনুমোদন ও অর্থায়নের ওপর।