দুই বছর পরেও পুলিশ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তবে মাঠে তাদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে এবং পুলিশ সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে পুলিশের ওপর ২৭১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পুলিশের ওপর ৮৭০টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গত বৃহস্পতিবার রাজারবাগে এক মতবিনিময় সভায় বলেন, অনেক পুলিশ সদস্য গত ১৭ বছর ধরে বঞ্চিত রয়েছেন এবং তারা তদবিরের মাধ্যমে ভালো পোস্টিং পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আইজিপি তাদের বলেন, তদবির করে ভালো পোস্টিং পাওয়া সম্ভব নয় এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে।

পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল ঘটেছে, তবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে নানা দুর্বলতা রয়ে গেছে। পুলিশে সংস্কার আনতে একটি কমিশন গঠনের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ সপ্তাহে শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরলেও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে পুলিশ এখনও পিছিয়ে আছে। বর্তমান নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার অভাব এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার কারণে শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশ মাঠে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, সারা দেশে ৪৬০টি পুলিশি স্থাপনায় আক্রমণ হয়েছে, যার মধ্যে ২২৪টি স্থানে আগুন লাগানো হয়েছে। পুলিশ কমিশন গঠন নিয়ে সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দ্বিধা রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

সম্প্রতি রাজধানীর আদাবরে ছিনতাইকারীদের হামলায় থানার ওসি ও এক এসআই আহত হয়েছেন। একই দিনে লালমনিরহাটের আদিতমারীতে শিশু হত্যার ঘটনায় আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিতে স্থানীয়দের হামলায় পুলিশ সদস্যসহ ৩০-৩৫ জন আহত হন। পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ ও সংঘবদ্ধ দলের হামলার শিকার হচ্ছেন।