দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি নতুন অনলাইন জুয়ার সাইট খোলা হচ্ছে। পহেলা মে থেকে ১১ই আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫৮৬টি জুয়ার সাইট সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এসব সাইটে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে।

অনলাইন জুয়া তরুণদের মধ্যে দ্রুত লাভের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করছে, যা তাদের মনোযোগ ও চিন্তার শক্তি ক্ষয় করছে। তরুণরা পড়াশোনার পরিবর্তে জুয়ার ফলাফলের অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা হারানো টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য আরও টাকা ঝুঁকিতে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব জুয়ার লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে। জুয়ার অর্থের একটি অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে, যেখানে অনলাইন জুয়া ও বেটিংকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের মনোভাব পরিবর্তন করতে শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তরুণদের অনলাইন জীবন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার প্রচারণার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়তে তাদেরকে জ্ঞান, শ্রম ও মেধার মাধ্যমে জীবন নির্মাণের সুযোগ দিতে হবে। অনলাইন জুয়া তাদের অর্থ, সময় ও মেধা খাচ্ছে, যা তাদের স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।