বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল চা-শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু। ১৮৪০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চা গাছ লাগানোর পর ১৮৫৭ সালে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে মৌলভীবাজারে ৯২টি, সিলেটে ২২টি এবং হবিগঞ্জে ২টি চা-বাগান রয়েছে। তবে এই শিল্প বর্তমানে সংকটে রয়েছে।

চা-শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে সমস্যা এবং উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি চা-শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে তাদের মজুরি ১৯৬.৩৭ টাকা, যা বাজারের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ টি বোর্ডের পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম জানান, এবারের চা উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ২৫-৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, নিলাম মূল্য ও শ্রমিক মজুরি বাড়াতে হবে, নাহলে চা-শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

চা-শিল্পের সংকট কাটাতে টাস্কফোর্স আড়াই হাজার কোটি টাকার টি সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্স ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এই ফান্ডের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ঋণ পুনর্গঠন এবং আধুনিকায়নের জন্য অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে।

টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক মামুন রশীদ বলেন, চা কোম্পানিগুলোর আয় না বাড়লে শ্রমিকদের কল্যাণ সম্ভব নয়। নতুন চারা রোপণ এবং সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা গড়ে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।