সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনা শিল্পনিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পূর্বে সরকারি পরিদর্শনে কারখানার নিরাপত্তা ঘাটতি ধরা পড়েছিল।

৯ ফেব্রুয়ারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করে। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং অতিরিক্ত কাজ করানোর অভিযোগ ছিল। জুলাইয়ে শ্রম আদালতে মামলা করা হলেও, এক মাসের মধ্যে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার সময় ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের জাহাজ কাটার সময় হাইড্রোজেন সালফাইডসহ বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এক শ্রমিক অচেতন হলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে অন্যান্য শ্রমিকও আক্রান্ত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন ছিল।

শ্রমিকদের অভিযোগ, আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, যেমন অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার, কারখানায় ছিল না। ফায়ার সার্ভিস খবর পায় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে, অথচ শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে আক্রান্ত হতে শুরু করেন।

এখন তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের পাশাপাশি নিরাপত্তা অনুমোদন, গ্যাস পরীক্ষা, এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। ৯টি পরিবার এখন শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, এবং তাদের ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি উঠেছে।