চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতির কারণে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকাল ৯টার দিকে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটে। এই জাহাজটি আগে এলএনজি পরিবহন করতো এবং কাটার জন্য ২০২৫ সালের জুলাইয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা জাহাজের একটি ট্যাংকের চারপাশ কাটার কাজ করছিলেন। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যবহৃত ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল, যা শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণ হয়েছে।
ছয় মাস আগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ফেরদৌস স্টিলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিক নোটিশ দেওয়া হলেও যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ফেরদৌস ওয়াহিদ ও ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ আলীকে আসামি করা হয়েছে।
শ্রম পরিদর্শক শাহেদ পারভেজ জানান, নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা সামগ্রী এবং নিরাপদ কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন করা হয়নি। এছাড়া, শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করানো হলেও ওভারটাইমের টাকা দেওয়া হয়নি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।