ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় ডিবির তৎকালীন ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের তিন সদস্যের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সুপারিশ পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের তৎকালীন ওসি মো. আলমগীর হোসেন, উপপরিদর্শক মো. আহাদুজ্জামান ও মোতাহার আলী, সহকারী উপপরিদর্শক মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আবু সুফিয়ান, রাকিব মোল্লা, মনিরুজ্জামান, মো. রাকিবুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন মিয়া, চম্পা হালদার ও মো. সবুজ মোল্লা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানান, তদন্তে অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

২০ জুন বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইশতিয়াককে আটক করে। হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে ২১ জুন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃত্যুর পরদিন ডিবির এসআই আহাদুজ্জামান বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে অভিযানের সময়ের অসঙ্গতি দেখা যায়। এ ঘটনায় ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৬৫ হাজার টাকা এবং পরে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল।