২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যা তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবি জানায়। এই আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ওই দিন এই দাবি ঘোষণা করেন। দুই দিন পর শেখ হাসিনা ক্ষমতা ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এক দফার সিদ্ধান্তের পেছনের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা চলছে।
সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের সোমবার (৩ আগস্ট) ফেসবুকে একটি পোস্টে এক দফার সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া এবং তৎকালীন সমন্বয়কদের মধ্যে মতবিরোধের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ১ আগস্ট ডিবি হেফাজত থেকে মুক্ত হওয়ার পর ৬ সমন্বয়কের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি, তবে কিছু ব্যক্তিগত আলোচনা হয়। পরদিন ২ আগস্টের কর্মসূচি নিয়ে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয়।
২ আগস্ট জুমার নামাজের পর একটি অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেওয়া হয়। কাদের জানান, বৈঠকে তিনি এক দফার প্রসঙ্গ তোলেন এবং সিনিয়রদের মতামত জানতে চান। আলোচনা শেষে সাত-দশ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর এক দফায় যাওয়ার মতামত আসে।
সেদিন সন্ধ্যায় কাদের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জানান, এক দফার বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তবে সিদ্ধান্ত নিতে হলে বাকি সমন্বয়কদের সম্মতি প্রয়োজন। পরে রিফাত, মাহিন ও মাসউদ এক দফার বিষয়ে সম্মতি জানান।
কাদের তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, এক দফা ঘোষণার আগের রাতে কিছু সমন্বয়ককে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সবাই অবগত ও রাজি থাকে, তবে এটি কীভাবে চাপের অংশ হতে পারে।