সাতক্ষীরার কৃষ্ণনগরে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ, দুর্ভোগে পরিবার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে আলতাফ হোসেনের পরিবারসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি মসজিদের রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি।
ভুক্তভোগী আলতাফ হোসেনের অভিযোগ, ফারুক হোসেন, মজিদ সরদার, খালেক মোল্লা, রাকিব উদ্দিন, মোস্তফা গাজী ও আসফারুক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ও স্বাভাবিক যাতায়াতে সমস্যার মুখে পড়েছে তাঁর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আলতাফ হোসেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে একটি পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে আসছিল। সম্প্রতি ওই পথ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আলতাফ হোসেনের দাবি, কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই পথটিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় তাঁদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আলতাফ হোসেন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে আসছি। কিন্তু এখন পথটি বন্ধ করে দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে হুমকি-ধমকির মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে আমার অভিযোগ।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আসফারুক হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জায়গাটি আমাদের ব্যক্তিগত নয়, এটি মসজিদের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে আলতাফ হোসেন জায়গাটি ব্যবহার করছিলেন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মসজিদ কমিটি জায়গাটি বুঝে নিয়েছে। এটি মসজিদের নিজস্ব রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। আমরা কোনো রাস্তা বন্ধ করিনি। আমাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
এদিকে, চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা, পথটির আইনগত অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের যাতায়াতের অধিকার নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান চান এলাকাবাসী।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁরা অবগত হয়েছেন। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জমির দলিল, রেকর্ড ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নেবেন, যাতে বিরোধের নিরসন হয় এবং আইনসম্মতভাবে চলাচলের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়।
প্রতিবেদন: নরসিংদী নয়, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।