পঞ্চগড়ে সড়কের টোল আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজস্ব আত্মসাতের দাবি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে গ্রামীণ সড়কে পাথর-বালুবাহী যানবাহন থেকে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ইজারা থেকে আদায় করা অর্থের সামান্য অংশ সরকারি হিসাবে জমা দিয়ে বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন এবং রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাক্কামারা ইউনিয়নের মিরগড়, লাঠুয়াপাড়া ও আহমেদ নগর এলাকার তিনটি সড়কে পাথর-বালুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নিয়মিত টোল আদায় করা হয়। প্রতিদিন এসব সড়কে চলাচলকারী ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের হিসাবে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারা বাবদ মাত্র ৪০ হাজার টাকা জমা দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সড়কগুলো আলাদাভাবে দুই লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হলেও প্রকৃত ইজারামূল্য ও পরিষদের হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে প্রতিবছর সাত থেকে আট লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা বছরের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাসের শেষ দিন পর্যন্ত এসব সড়কের ইজারা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও পরিষদের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মোজাহারুল হক বলেন, ইজারা দেওয়ার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। চেয়ারম্যান আলাদাভাবে ইজারা দিয়েছেন। তাঁকে জানানো হয়েছিল, ইজারার পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

অপর ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ জানান, সড়ক ইজারা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। চেয়ারম্যান তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাইমুল ইসলাম বলেন, কোন সড়ক কত টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে এ খাতে জমা দেওয়ার জন্য তাঁকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা রাজস্ব হিসাব নম্বরে জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, লাঠুয়াপাড়া এলাকার সড়কের টোল আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, এ কাজে একাধিক ব্যক্তি অংশীদার রয়েছেন। তবে ঠিক কত টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

টোল আদায়কারী আকতারুল জানান, খরচসহ সাড়ে চার লাখ টাকায় সড়কটি ইজারা নেওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, সড়কের কর আদায়ের ইজারা ঠিক কত টাকায় দেওয়া হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। তবে পরিষদে সবার সামনে উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইজারার বিপরীতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, তাঁরা ওই পরিমাণ অর্থ জমা দেন। তবে আদায়ের পরিমাণ কিছুটা বেশি হয়। তাঁর ভাষ্য, পরিষদের চেয়ারম্যানদের বেতন-ভাতা নেই এবং বিভিন্ন খরচও রয়েছে।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ইজারার নথিপত্র ও রাজস্ব জমার হিসাব যাচাই এবং সরকারি অর্থের যথাযথ হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।