১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর তার মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (বরখাস্ত/অবসরপ্রাপ্ত) মোজাফফর হোসেন এই তথ্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ করেছেন।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, মোজাফফর হোসেন গত ১৩ সেপ্টেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের সময় বলেন, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তাকে জিয়ার মরদেহ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি সৈনিকদের নিয়ে মরদেহ পাহাড়ে নিয়ে যান।

তবে মোজাফফর জানান, তিনি নির্দেশ অমান্য করে মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলেননি। বরং তিনি একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের মরদেহ একটি কবরে দাফন করেন। তবে ইমামকে জানানো হয়নি যে, এটি তৎকালীন রাষ্ট্রপতির মরদেহ ছিল।

প্রসিকিউটর তানভীর আরও জানান, মোজাফফরের বাংলাদেশি এনআইডি ও পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তার এই জবানবন্দি নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।