মাদকের প্রভাবের কারণে দেশের কিশোর-তরুণ প্রজন্ম বিপন্ন হয়ে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি সরকার এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মও একই পরিণতির শিকার হতে পারে। রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, যা কিশোর-তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যবহারও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। অনেক শিশু-কিশোর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত হয়ে চিকিত্সার জন্য আসছে। দেশের অন্যতম মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মাদক ও মোবাইল ব্যবহারে আসক্তি একই ধরনের হতে পারে, যা নৃশংস ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
অধ্যাপক মোহিত কামাল আরও জানান, স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবায় আসক্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্ধুবান্ধবদের প্ররোচনায় অনেক শিক্ষার্থী মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের মাদকাসক্তি ও মোবাইল আসক্তির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন না দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। মাদকাসক্ত তরুণদের আড্ডায় সন্তানদের না যেতে দেওয়ার বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে মাদক প্রবেশের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার ও গ্রেফতারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিজিবি জানিয়েছে, গত এক বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।