একসময়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক কার্যালয় এখন ভাঙারির দোকান, সামনে ময়লার স্তূপ
আর এ লায়ন সরকার, নরসিংদী।
একসময় নরসিংদীর রাজনীতির অন্যতম আলোচিত স্থান ছিল শাপলা চত্বরের একটি কার্যালয়। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাদেরও বিভিন্ন সময়ে এই কার্যালয়ে আসা-যাওয়া ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। রাজনৈতিক আলোচনা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ নানা বিষয় নিয়ে সেখানে বৈঠক হতো।
তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। একসময়ের ব্যস্ত রাজনৈতিক কার্যালয়টি বর্তমানে ভাঙারির দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্যালয়ের সামনের সড়কজুড়ে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। কোথাও কোথাও ড্রেনের পানি উপচে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে শাপলা চত্বর থেকে তরুয়া মাজার সড়কের একটি অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, করোনাকালীন সময়ে ওই কার্যালয়টি পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য মালামাল রাখার স্থান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। সে সময় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত মানুষের আনাগোনা ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন মামলার কারণে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আত্মগোপনে চলে যান; আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। একই পরিস্থিতিতে নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে এবং তাঁরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর শাপলা চত্বরের ওই কার্যালয়টি মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়ায় পাঁচ বছরের চুক্তিতে ভাঙারির দোকান হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। বর্তমানে সেখানে ভাঙারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন আফজাল মিয়া।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা যখন ওই কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন, তখন জায়গাটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারতেন না। বর্তমানে কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও আশপাশের পরিবেশের অবস্থা বদলে গেছে। ময়লা ও ড্রেনের পানি জমে থাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের এলাকায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে রয়েছে। ড্রেনের পানি উপচে পড়ায় দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ বিষয়ে কার্যালয়ের কেয়ারটেকার কিংবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।
তবে কার্যালয়টি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ী আফজাল মিয়া বলেন, তিনি কেয়ারটেকারের মাধ্যমে মাসিক ভাড়ার চুক্তিতে জায়গাটি নিয়েছেন। ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের গুরুত্ব যাই থাকুক, বর্তমানে সড়ক ও পরিবেশের যে দুরবস্থা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে ড্রেন পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।