রায়পুরায় ডাকাতি মামলার তদন্ত নিয়ে বিতর্ক এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষকে সহায়তার অভিযোগ, পুনঃতদন্ত চেয়েছেন বাদী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর রায়পুরায় সংঘটিত একটি আলোচিত ডাকাতি মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রায়পুরা থানার এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষকে সহায়তা, তদন্তে গাফিলতি এবং মামলাটি দুর্বল করার অভিযোগ তুলেছেন মামলার বাদী। ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রায়পুরা থানার মামলা নং-০২/২১৩ এর বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে নরসিংদীর তরোয়া মাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে রওনা হন মামলার বাদী আর এ লায়ন সরকার। পথে হাসনাবাদ ১০ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ৮ থেকে ৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তার পথরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, ডাকাতরা প্রথমে বাদীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত রানার কোম্পানির একটি মোটরসাইকেল, অপ্পো এফ-৫০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে দুর্বৃত্তরা তাকে নতুন রেললাইনের ওপর বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বাদী উদ্ধার হন। স্থানীয় কয়েকজন দোকানদার ও অটোরিকশা চালক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। ঘটনার পরপরই বিষয়টি রায়পুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাফায়েত হোসেন পলাশকে মুঠোফোনে জানানো হলে তিনি পরদিন সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত দড়িও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি রায়পুরা থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
তবে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে পরবর্তীতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাদীর অভিযোগ, একাধিক ওসির বদলির পর মামলাটি এসআই জাকিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও তিনি কখনো বাদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি কিংবা ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, বাদীর অগোচরে রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির ওই আসামির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
বাদীর দাবি, “যদি আমির হোসেন মামলার সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে তাকে কেন গ্রেফতার করা হলো? আবার পরবর্তীতে কেন তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলো? এতে স্পষ্টভাবে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতে একাধিক তারিখ পড়লেও তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কোনো ধরনের তথ্য জানাননি। পরবর্তীতে আদালতের নোটিশ পেয়ে মামলার নথি সংগ্রহ করার পর তিনি পুরো বিষয়টি জানতে পারেন।
মামলার বাদী আর এ লায়ন সরকার অভিযোগ করেন, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসআই জাকির মামলাটিকে নথিভুক্ত করে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন, যা তাকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার শামিল। তিনি এসআই জাকিরের বিরুদ্ধে পুলিশি আইনে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে বাদী ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করেছেন। তার আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি ডাকাতি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।